শিক্ষা অধিদপ্তর

আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় অভিভাবক, ৪ লক্ষ শিক্ষকের আস্থার জায়গা মানণীয় সিনিয়র সচিব জনাব মো. আকরাম আল হোসেন মহোদয় আশার বাণী শোনালেন, ফিক্সেশন উচ্চধাপেই হবে, ইনশাআল্লাহ্। আজ এ ব্যাপারে বৈঠক হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে এ ব্যাপারে আলোচনা চলছে।’

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন ফিক্সেশন বিষয়ক এমন একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে সাবেরা বেগম, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি এস-১২০৬৮ এর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, গতকাল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো.আকরাম আল হোসেন আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন। ১৩ তম গ্রেডে ফিক্সেশন উচ্চধাপে হবে। গতকাল এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। এবং অর্থ মমন্ত্রনালয়ের সাথে এ বিষয়ে আলাপ আলোচনা চলছে। সাবেরা বেগম আরো বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে সিনিয়র সচিবের সাথে গতকাল কথা বলেছিলেন মো. আবুল কাশেম, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি।

এরপর, মো. আবুল কাশেমের এর নিকটহতে জানা যায় –  তিনি ফোনালাপে সিনিয়র সচিবের ১৩ তম গ্রেডে উচ্চধাপে বেতন নির্ধারণ বিষয়ে আশ্বস্ত করণ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি আরো বলেন, সচিব মহোদয় আশ্বস্ত করেছেন তবে দ্রুত এ বিষয়ে একটি চিঠি করে নেওয়ার জন্য আমরা প্রচেষ্টারত।

উল্লেখ্যঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কথা বলেন। তিনি তার বক্তব্যের মাঝে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ১৩ তম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে বলে ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরো বলেন, প্রায় ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের জন্য ১১তম গ্রেড প্রদান করা হয়েছে এবং ৩ লাখ ৮২ হাজার সহকারী শিক্ষককের জন্য ১৩ তম গ্রেড প্রদান করা হয়েছে।

একই সময় কালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রালয়ের সচিব মো. আকরাম আল হোসেনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন, এখন প্রধান শিক্ষকদের দুটি স্কেল বলবৎ আছে ১১ তম ও ১২ তম গ্রেড। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকগণ ১১তম ও প্রশিক্ষণ বিহীন প্রধান শিক্ষকগণ ১২তম গ্রেডে বেতন পেয়ে থাকেন। এখন আর প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ বিহীন এটি আর থাকবে না। সেটিকেই এক করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেছিলেন, সহকারী শিক্ষকদেরও দুটি স্কেল ১৪ ও ১৫ তম। প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ বিহীন এটিকেও এক করে ১৩ তম গ্রেড করা হয়েছে।

মূলতঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের দাবী ছিল প্রধান শিক্ষকদের পরের ধাপে বেতন ও প্রধান শিক্ষকদের দাবী ছিল ১০ গ্রেডে বেতন নির্ধারণ। এখন এই ১৩ তম গ্রেড ও ১১ তম গ্রেড প্রদান করায় সশি ও প্রশি কারোরই কাংখিত বেতন গ্রেডের দাবী পুরন হয়নি। বরং সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য আরও বেড়েছে এমনই দাবী সহকারী শিক্ষকদের।

এখন ১৩ তম গ্রেড প্রদানের ফলে সহকারী শিক্ষকবৃন্দ যে সমস্যা সম্মুখীন তা কিছুটা তুলে ধরা হল;
• ১৩ তম গ্রেড সবাই পাচ্ছে না।
• ১৩ তম গ্রেড যারা পাচ্ছেন তাদের নিম্ন ধাপে বেতন হলে বেতন কমবে সহকারী শিক্ষকদের।
• প্রাথমিকে প্রায় ৪ লক্ষ শিক্ষকের মধ্যে প্রায় সোয়া লাখ শিক্ষকই ১৩ গ্রেডের সুবিধা পাবেন না।
• প্রাথমিকে প্রায় ৬০ ভাগই নারী শিক্ষক কর্মরত, নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা যা চাওয়া হয়েছিল তা দিয়েই তারা চাকুরীতে উতরে গেছেন। পরবর্তীতে বিদ্যালয় ও সংসার নিয়ে অধিকাংশেরই আর এগোনো হয়নি। তারা পড়ে যাবেন বৈষম্য ও সন্মান নিয়ে বিপাকে। কারন এই গ্রেডভুক্ত হতে হলে ১৩ তম গ্রেডের কাংখিত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক দ্বিতীয় শ্রেণি হতে হবে।
• এছাড়া চলতি দায়িত্ব প্রাপ্ত অনেক প্রধান শিক্ষকগণ ও ১৩ তম গ্রেডের আওতায় আসবেন না।

কিন্তু সারা বাংলাদেশের শিক্ষকদের দাবী ১০ ও ১১তম গ্রেডের। তাদের দাবীতে বারবার আশ্বাস দেয়া হলেও বাস্তবায়নের সময় তার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার যেন শুধু আশার বানী শুনে শুনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here