আদালত

২০১৩-২০১৪ সালে জাতীয়করণকৃত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেসরকারী চাকুরীকাল গণনা করে কার্যকর চাকুরীকাল ধরে টাইমস্কেল বাবদ গৃহীত টাকা ফেরতের স্থগিতাদেশের কার্যকরিতা স্থগিত করল উচ্চ আদালত। বিধি-বহির্ভূতভাবে তাদের টাইমস্কেল দেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের নির্দেশে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে শিক্ষা কর্মকর্তাদের চিঠি পাঠিয়ে শিক্ষকদের বেতন পুনঃনির্ধারণের ব্যবস্থা নিতে মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এসব শিক্ষকের টাইমস্কেল বাবদ পাওয়া অতিরিক্ত টাকা ফেরতের নির্দেশনা দিয়ে জারি করা হাইকোর্টের স্থগিতাদেশটিও স্থগিত করে দিয়েছে আপিল বিভাগ।ফলে শিক্ষকদের নিকট থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ব্যবস্থা গ্রহণে হিসাবরক্ষণ অফিসগুলোর আর কোন আইনি বাধা রইল না।

২০১৩-২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে অধিগ্রহণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেসরকারি আমলের চাকরিকাল গণনা করে টাইমস্কেল দেয়া হয়েছিল। তবে, সম্মতি না নিয়ে হিসাবরক্ষণ অফিসগুলো থেকে শিক্ষকদের এভাবে টাইমস্কেল দেয়াকে বিধিবহির্ভূত বলেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তাই, গত ১২ আগস্ট জারি করা এক আদেশে এসব শিক্ষকদের টাইমস্কেল বাবদ দেয়া অতিরিক্ত টাকা ফেরত নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। একই সাথে নিয়ম ভেঙে শিক্ষকদের টাইমস্কেল দেয়ার সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

১২ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশের বিরুদ্ধে রিট মামলা করেন কয়েকজন শিক্ষক। পরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশটি স্থগিত করে হাইকোর্ট। কিন্তু গত ২৭ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠির ওপর দেয়া হাইকোর্টের স্থগিতাদেশটিও স্থগিত করে আপিল বিভাগ।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর সব ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব একাউন্টস, ডিস্ট্রিক্ট একাউন্টস অন্ড ফিন্যান্স অফিসার, উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং উপ মহানিয়ন্ত্রককে পাঠানো এক চিঠিতে বেসরকারি আমলে চাকরিকাল গণনা করে টাইমস্কেল পাওয়ার শিক্ষকদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেয় হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়।

সে প্রেক্ষিতে জেলা হিসাব রক্ষণ অফিস থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের চিঠি পাঠিয়ে অতিরিক্ত টাকা কেটে শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

 

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here