স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয় চিন্তা করে করোনা পরিস্থিতিতে পিটিআই বন্ধের আগের ক্লাস, অনুপস্থিতি, এসাইনমেন্ট ও প্র্যাকটিকেলের ভিত্তিতে অটোপাশের দাবি করেছে ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারী এডুকেশনের (ডিপিএড) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। এই নিয়ে অনলাইন, অফলাইনে সরব হচ্ছেন দেশের বিভিন্ন জেলার ৬৭ টি প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। এছাড়া জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমী (নেপ) বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছে কয়েকটি জেলার শিক্ষার্থীরা।

সরাসরি ক্লাস না করেও পরীক্ষা নেওয়াকে শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের সাথে তুলনা করে বলেন, আমরা ভর্তি হয়েছিলাম আমাদের প্রতিভা দেখাতে ও দেখতে , শিখতে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে। দলবেধে প্রেকটিস টিচিং এ যাওয়া, বনভোজন এ যাওয়া , বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পারফরমেন্স করা , অন্যের ক্রিয়েটিভিটি দেখে নিজে কিছু শেখা, নিজের কোন জরতা থাকলে তা কাটিয়ে উঠা , আই সি টি স্বাক্ষরতা জ্ঞান অর্জন করা। আমাদের শ্রদ্ধেয় স্যারদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারা । এসব কোন কিছুই আমরা অর্জন করতে পারলাম না। তাহলে এটি কি শুধুই সার্টিফিকেট কোর্স?

শিক্ষার্থীদের দাবি, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমী থেকে পরীক্ষার যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তা কোনভাবেই সম্ভব নয়। করোনার কারনে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয় চিন্তা করে যেভাবে এইচএসসি, জেএসসি, পিএসসিসহ সব ধরনের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে, সেভাবে তাদের পরীক্ষাও বাদ দিয়ে অটোপাশ দেয়া হোক।

জানা যায়, ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারী এডুকেশন (ডিপিএড) বোর্ড ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ইনকোর্স পরীক্ষার তারিখ নির্ধারন করে গত ১১ অক্টোবর একটি পরিপত্র জারি করে। এতে ইনকোর্স মূল্যায়ন পরীক্ষা আগামী ১৫ থেকে ২৩ নভেম্বর কোভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মুখোমুখি এবং স্বাভাবিক না হলে অনলাইনে হবে বলে জানানো হয়।

শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন মাধ্যমে বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে ডিপিএড অনলাইন ক্লাস করতে গিয়ে আমরা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছি। যেখানে এই করোনাকালে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ সেখানে আমরা ক্লাস, এসাইনমেন্ট, লেসন স্টাডি আর প্র্যাকটিকেলের চাপে অতিষ্ঠ। এই কাজগুলো সম্পন্ন করতে আমাদের বাসার বাইরে যেতেই হচ্ছে। অনেক সময় ব্যক্তিগত ডিস্টেন্স মেন্টেন করা যাচ্ছে না। আমরা পড়ছি করোনা ঝুঁকিতে। ইতোমধ্যে আমাদের অনেকে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আবার অনেকের পরিবারের সদস্য করোনায় মারা গেছে। ফলে আমরা সবাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।

তারা আরও বলেন, করোনা থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন দূঃশ্চিন্তা না করতে অথচ আমরা সামনে পরীক্ষা নিয়ে সারাক্ষণ দূঃশ্চিন্তায় আছি। ডিপিএড অনলাইন ক্লাসের কারণে হাতে কলমে কেউ ক্লাস বুঝতে সক্ষম হয়নি। তাছাড়া দেশের মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নেটওয়ার্কের যেই অবস্থা মনোযোগ ধরে রেখে ক্লাস ও করা যায় না। এই নেটওয়ার্কের কারণেই অনলাইনে পরীক্ষা নিলে বেশীরভাগ শিক্ষার্থী ভালোভাবে পরীক্ষা দিতে পারবে না। আবার সরাসরি পরীক্ষা নিলে করোনার ঝুঁকি। এই অবস্থায় আমাদের পরীক্ষা না নিয়ে যেই এসাইনমেন্ট ও প্র্যাকটিকেল দেওয়া হয়েছে সেগুলোর ভিত্তিতে মূল্যায়ণ করলে আমরা শিক্ষার্থীরা এবং ইন্সট্রাকটররা উপকৃত হন। শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে বেঁচে যান।

মাজেদুল হক ভুঁইয়া নামীয় একজন শিক্ষার্থী শিক্ষকের দাবি, এখনও যারা বই পাননি তারা কিভাবে পরীক্ষা দিবেন?

তাছাড়া অনেকেরেই দাবী, তারা লেখাপড়া করেই বিএ বা এম এ বা সমমানের পরীক্ষায় পাশ করে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এ পেশায় এসেছেন। তাদের অযোগ্য ভাবার সুযোগ নেই। এবং যতদিন পিটিআই খোলা ছিল ততদিন তারা বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন, অংশ নিয়েছেন অনলাইন ক্লাসে। তারা পিটিআই কর্তৃক যাবতীয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে চলছেন। তার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করেও রেজাল্ট প্রদান করতে পারেন কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এইচ এসসি’র মতো পাবলিক পরীক্ষা না নিয়ে রেজাল্ট প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের মানুষ সেটাকে সাধুবাদ জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশংসা করেছেন। সেটাকে দৃষ্টান্ত হিসেবে নিয়ে আমাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে আমাদের পরীক্ষা থেকে মুক্তি দিতে অনুরোধ করছি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here